Search This Blog
ফাহিম ইসলামিক ব্লগ: এখানে ইসলামিক জ্ঞান, ওয়াজ, গজল, কোরআন হাদীস ভিত্তিক আলোচনার মাধ্যমে দ্বীনি জ্ঞান শেয়ার করা হয়।
Featured
- Get link
- X
- Other Apps
নামাজ
নামাজ: আত্মার প্রশান্তি ও জীবনের দিকনির্দেশনা
মানুষের জীবনে এমন কিছু বিষয় রয়েছে যা শুধুমাত্র শারীরিক চাহিদা পূরণ করে না, বরং আত্মার গভীর প্রশান্তি ও পরিপূর্ণতার অনুভূতি দেয়। তেমনই একটি বিষয় হলো নামাজ—ইসলামের মূল স্তম্ভগুলোর মধ্যে অন্যতম। এটি শুধু একধরনের ইবাদতই নয়, বরং একজন মুসলমানের দৈনন্দিন জীবনের কেন্দ্রবিন্দু। নামাজ মানুষকে শৃঙ্খলিত করে, চিন্তা-ভাবনায় আনে স্বচ্ছতা, আর আত্মাকে করে পবিত্র। প্রতিটি রাকাতে যেমন আল্লাহর স্মরণ থাকে, তেমনি প্রতিটি সিজদায় থাকে বিনয় আর অনুশোচনা।
এই ব্লগে আমরা জানব নামাজের গুরুত্ব, এর পেছনের আত্মিক দর্শন, এবং কিভাবে এটি আমাদের ব্যস্ত জীবনের মাঝে স্থিরতা ও দিকনির্দেশনা এনে দেয়।
নামাজের ওয়াক্ত বা সময়
১। ফজরে নামাজের ওয়াক্ত: সুহে সাদিক হতে আরম্ভ করে সূর্য ওঠার পূর্ব পর্যন্ত। এ সময় দুই রাকাত সুন্নাতে মুয়াক্বাদাহ ও দুই রাকাত ফরজ নামাজ পড়তে হয়।
* রাতের শেষভাগে পূর্ব আকাশে উত্তর-দক্ষিণে সাদা লম্বা আকৃতি বিশিষ্ট একটি আলো প্রকাশ পায়,একে সুবহে কাজিব বলা হয়। এরপর পুনরায় পূর্বাকাশে বিস্তৃত আলো দেখা দেয়, এ সময়কে সুবহে সদিক বলে।
২।জোহরের নামাজের ওয়াক্ত:দ্বিপ্রহরের কিছু পর জোহরের নামাজের সময় আরম্ভ হয় এবং কোনো বস্তর ছায়া ব্যতীত বস্তর ছায়া দ্বিগুণ হওয়া পর্যন্ত জোহরের ওয়াক্ত থাকে। এ সময়ের মধ্যে চার রাকাত সুন্নাতে মুয়াক্বকদাহ ও তৎপর চার রাকাত ফরজ এবং তারপর পুনরায় দুই রাকাত সুন্নাতে মুয়াক্কাদাহ পড়তে হয়।
৩।আসরের নামাজের ওয়াক্ত: জোহরের নামাজের সময়ের পর হতেই সূর্যাস্তের পূর্ব পর্যন্ত আসরের ওয়াক্ত থাকে। এই ওয়াক্তে প্রথমে চার রাকাত সুন্নাতে গাইরে মুয়াক্কাদাহ বা নফল পড়তে পারে; তৎপর চার রাকত ফজর পড়তে হয়।
৪। মাগরিবের নামাজের ওয়াক্ত: সূর্যাস্তের পর পর্যতেন্ত পড়া মুসতাহাব। আকাশে লালিমা থাকা পর্যন্ত। এই ওয়াক্তে প্রথম তিন রাকাত ফরজ পড়ে তৎপর দুই রাকাত সুন্নাতে মুয়াক্কাদাহ পড়তে হয়।
৫। ইশার নামাজের ওয়াক্ত: মাগরিবের নামাজের পর হতে আরম্ভ করে সুবহে সাদিকের পূর্ব পর্যন্ত এর ওয়াক্ত থাকে । এই নামাজ রাতের এক তৃতীয়াংশ পর্যন্ত পড়া মুসতাহাব। রাতের দ্বিপ্রহর পর্যন্ত বিলম্ব করে পড়া মুবাহ এবং বিনা কারণ রাত দ্বিপ্রহরের পর পড়া মাকরুহ। এই ওয়াক্তে প্রথমে চার রাকাত ফরজ,এপর দুই রাকাত সুন্নাত। তৎপর তিন রাকাত বিতরের নামাজ ইশার নামাজের পর পড়তে হয়।
নামাজের ফরজসমূহ
নামাজ আদায় করতে হলে কতক নিয়ম অবশ্যই পালন করতে হবে। নামাজের বাইরে আটটি নিয়ম, এক নামাজের শর্ত বলে। নামাজের ভিতরে ছয়টি ফরজ একে রোকন বলে।
নামাজের রোকন সমূহ
নামাজ আরম্ভ করার পর হতে যে সব কাজ করা ফরজ , তাকে নামাজের রোকন বলে। এটি মাত্র ছয়টি:-১। দাঁড়িয়ে নামাজ আদায় করা।২। নামাজের মধ্যে কোরআনের কতক আয়াত পাঠ করা।৩।রুকু করা ৪। সেজদা করা।৫শেষ বৈঠকে তাশাহুদ পাঠ পরিমাণ বসা। ৬।ইচ্ছা পূর্বক কোনো কাজ করে নামাজ ভঙ্গ করা।
১নং মাসয়ালা:- সালামের সাথে নামাজ ভঙ্গ করা সুন্নাত।
২নং মাসয়ালা:- নামাজ আদায় করতে গিয়ে উপরোক্ত ১৪টি ফরজের কোনো একটি ভুলে ও ছেড়ে দিলে শুদ্ধ হবে না। নামাজ পুনরায় পড়তে হবে।
নামাজের রোকন সমূহ
১। চাঁদর বা জামা না পরে কাঁদে ঝুলিয়ে রাখা।
২। ময়লা লাগার ভয়ে জামা-কাপড় গুটিয়ে নেওয়া।
৩। আঙুল মটকানো।
৪। বস্ত্র, শরীর বা দাড়ির সাথে খেলা করা।
৫। এদিক সেদিক তাকানো।
৬। চুল মাথার উপরি ভাগে বাঁধা।
৭। বিনা ওজরে সেজদার স্থান থেকে ইট-পাথর সরানো।
৮। আলস্যভরে শরীর মোড়ামুড়ি দেওয়া।
৯। সিজদার সময় হাত বিছানো।
১০। আগের কাতারে স্থান থাকতে পিছনের কাতারে দাড়ানো।
১১। অহেলা করে খালি গায়ে নামাজ পড়া।
১২।আকাশের দিকে তাকানো।
১৩।ভালো কাপড় থাকতে মন্দ কাপড়ে নামাজ পড়া।
১৪। নামাজের মধ্যে কপালের মাটি মুছে ফেলা।
১৫। কোনো প্রাণীর প্রতিমূর্তি সম্মুখে,ডনে, বায়ে,মস্তকের উপর বা কাপড়ের মধ্যে থাকা।
১৬। সিজদার সময় বিনা করণে হাটুর পূর্বে হাত মাটিতে রাখা।
১৭। বিনা করণে আসন পেতে বসা।
১৮। ফরজ নামাজে এক সুরা বারবার পড়া।
১৯। কোনো মানুষের মুখের দিকে হয়ে নামাজ পড়া।
২০। সিজদায় পেট উভয় উরুর সাথে মিলিয়ে দেওয়া।
২১। এক হাত বা তদুধর্ব স্থানে ইমামের দাড়ানো।
২২। নাক মুখ ডেকে নামাজ পড়া।
২৩। উভয় সিজদার মধ্যে অথবা তাশাহুদ পড়ার সময় কুকুরের ন্যায় বসা।
২৪।দুই হাত মাটিতে ভর দিয়ে ওঠা।
২৫। কোনো সুন্নাহ পরিত্যাগ করা।
নামাজ ভঙ্গের কারণ সমূহ
যেসব কাজ দ্বরা নামাজ নষ্ট হয় তাকে ‘সুফসিদাতে নামাজ’ বলে । সেসব কাজ করলে নামাজ দ্বিতীয়বার পড়তে হয় ।নিম্নলিখিত কারণে নামাজ নষ্ট হয়ে যায়। যেমন:-
১। নামাজের মধ্যে জ্ঞান,অজ্ঞান,ভুলে ইচ্ছায় বা অনিচ্ছায় কথাবার্তা বলা।
২। কাউকে সালাম করা।
৩। সালামের উত্তর দেওয়া।
৪। উহ!আহ! শব্দ করা।
৫। বেদনা অথবা শোকে শব্দে করে ক্রন্দন করা।
৬। বিনা ওজরে বসা।
৭। সতরের এক চতুর্থংশ পর্যন্ত কাপড় খুলে যাওয়া
৮। নামাজের কোনো ফরজ ত্যাগ করা।
৯। কুরআন মজিদ খুলে পড়া।
১০। নাপাক স্থানে সিজদা করা।
১১। হাচিঁর উত্তরে ‘ইয়ারহামুকাল্লাহ’ বলা।
১২। পানাহার করা।
১৩। প্রত্যেক রোকনে দুইবারের অতিরিক্ত চুলকানো।
১৪। সুসংবাদ ‘আলহামদুলিল্লাহ’এবং দুঃসংবাদে ‘ইন্নালিল্লাহ’পড়া।
১৫। ইমামের পূর্বে মুকতাদির কোনো রোকন আদায় করা।
১৬। নামাজের মধ্যে অতিরিক্ত কাজ করা।
নামাজ শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত কীভাবে পড়বেন
নামাজের শুরুতে মনে মনে নিয়ত করবেন।যারা আরবি ভাষা বুঝেন না -তারা নিজ ভাষায় নিয়ত করবেন। অতঃপর হাত কান পর্যন্ত ওঠাবেন,এটা সুন্নাত। এ অবস্থায় তকাবিরে তাহরিমা মানে الله أكبر ‘আল্লাহ আকবার’ বলা ফরজ। তারপর হাত নাভীর নিচে বাঁঁধবেন।অতঃপর সানা পড়া সুন্নাত। সানা হচ্ছে-সুবহানাকা আল্লহুম্মা ওয়া বিহামদিকা ওয়া তাবারাকাসমুকা ওয়া তাআলা জাদ্দুকা ওয়া লা-ইলাহা গাইরুকা। একাকী নামাজ পড়লে অথবা ইমাম হলে নিম্নের নিয়ম অনুযায়ী কিরাত পাঠ করবেন। ইমামের পিছনে নামাজ পড়লে শুধু চুপ করে দাঁড়িয়ে থাকবেন।
’আউজুবিল্লাহি মিনাশ শাইতানির রাজিম” বলা সুন্নাত। অতঃপর সুরায়ে ফাতিহা পড়তে হবে- সুরা ফাতিহার পর ‘আমিন’ বলা সুন্নাত। আমিন সকলেই বলবে। অতঃপর বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম পড়া মুসতাহাব।
মনে রাখতে হবে,কিরাত ছাড়া বাকি সবকিছু সকাল মুসল্লিকে পড়তে হবে; অর্থাৎ একাকী বা মুকতাদী বা আমাম সকরেরই পড়তে হবে।
* অতঃপর রুকুতে যাবেন। রুকুতে যাওয়ার সময় “আল্লাহু আকবার” বলা সুন্নাত রুকুতে ‘সুবহানা রাব্বিয়াল আজিম’ পাঁবার সাত বার বলা সুন্নাত।
*অতঃপর রুকু থেকে উঠবেন। রুকু হতে ওঠার সময়। ‘সামিআল্লাহি লিমান হামিদা- রাব্বানা লাকাল হামদু” বলবেন।
* অতঃপর রুকু থেকে সোজা হয়ে দাাঁড়য়ে পড়বেন, হামদান কাসিরান মুবারাকান ফি-হি’।
*অতঃপর সিজাদায় যাবেন। সিজাদয় যাওয়ার সময় ’আল্লাহু আকবার” বলা সুন্নাত। সিজদায় ’ সুবাহানা রাব্বিয়াল আ-লা’ কমপক্ষে তিন বার বলা সুন্নাত। পাঁচ বার সাত বার বলাও সুন্নাত।
*অতঃপর সিজদা থেকে উঠে বসে দেরি করা ওয়াজিব। ওই অবস্থায় বসে রাব্বিগফিরলি ওয়ারহামনি ওয়া আফিনি ওয়াহদিনি ওয়ারজুকনি’ পড়তে হবে।
* তারপর দ্বিতীয় সেজদা করবেন । পূর্বের সেজদার ন্যায় দ্বিতীয় সেজদায় ও ’সুবহানা রাব্বিয়াল আ-লা’ কমপক্ষে তিন বার বলা সুন্নত। পাচঁ বার সাত বার বলাও সুন্নাত।
* তারপর দ্বিতীয় রাকাতের জন্য দাড়িয়ে যাবেন। দাড়িয়ে প্রথম রাকাতের মতো হাত বাঁধবেন। বিসমিল্লাহ পড়বেন। অতঃপর সুরা ফাতিহা পুরা পড়তে হবে।
* অতঃপর রুকুতে যাবেন।
* তারপর সিজদা করবেন।
দ্বিতীয় রাকাতের রুকু ও সিজদা প্রথম রাকাতের মতোই।
* অতঃপর বসবেন (আখিরি বৈঠক না হলে)। শুধু আত্তাহিয়্যাতু পড়তে হবে।আত্তাহিয়্যাতুকে তাশাহুদ বলে।
لتَّحِيَّاتُ لِلَّهِ وَالصَّلَوَاتُ وَالطَّيِّبَاتُ، السَّلَامُ عَلَيْكَ أَيُّهَا النَّبِيُّ وَرَحْمَةُ اللَّهِ وَبَرَكَاتُهُ، السَّلَامُ عَلَيْنَا وَعَلَى عِبَادِ اللَّهِ الصَّالِحِينَ، أَشْهَدُ أَنْ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ وَأَشْهَدُ أَنَّ مُحَمَّدًا عَبْدُهُ وَرَسُولُهُ.
আর যদি আখিরি বৈঠক হয়
* অতঃপর দুরুদ শরিফ পড়তে হবে।
* এরপর দুআয়ে মাসুরা পড়তে হবে-
* আর বিতরের নামাজে দুআয়ে কুনুত পড়তে হবে-
اَللّٰهُمَّ اِنَّا نَسْتَعِيْنُكَ وَنَسْتَغْفِرُكَ وَنُؤْمِنُ بِكَ وَنَتَوَكَّلُ عَلَيْكَ وَنُثْنِىْ عَلَيْكَ الْخَيْرَ وَنَشْكُرُكَ وَلاَ نَكْفُرُكَ وَنَخْلَعُ وَنَتْرُكُ مَنْ يَّفْجُرُكَ. اَللّٰهُمَّ اِيَّاكَ نَعْبُدُ وَلَكَ نُصَلِّىْ وَنَسْجُدُ وَاِلَيْكَ نَسْعٰى وَنَحْفِدُ. نَرْجُوْ رَحْمَتَكَ وَنَخْشٰى عَذَابَكَ اِنَّ عَذَابَكَ بِالْكُفَّارِ مُلْحِقٌ.
অতঃপর আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ বলে নামাজ শেষ করবে।প্রথম সালামের তুলনায় দ্বিতীয় সালাম আস্তে বলবে। যে নামাজের পর সুন্নাতে মায়াক্কাদা থাকবে সে নামাজের পর আসতাগফিরুল্লাহ তিন বার পরে মোনাজাত করবে। মোনাজাতে আপন ভাষায় যা যা বলা দরকার আল্লাহর কাছে তাই বলবে এবং চাইবে । তিনি কাউকে নিরাশ করবেন না।
Popular Posts
- Get link
- X
- Other Apps
- Get link
- X
- Other Apps
.jpeg)
Comments
Post a Comment