Skip to main content

Featured

পরীক্ষাকালীন সময় এবং পরীক্ষার হলে শিক্ষার্থীদের পালনীয় বিষয় সমূহ

 পরীক্ষাকালীন সময়ে পাঁচ ওয়াক্ত নাময যথাসময়ে আদায় করবেন এবং সকল গুণাহ থেকে বেঁচে থাকবেন। ফরয-ওয়াজিব গুলো মেনে চলার পাশাপাশি কিছু কিছু দান সদকা এবং নফল ইবাদত করার চেষ্টা করবেন। পরীক্ষাকালীন সময়ে গোসল,ঘুম এবং নাস্তা পরিমিত ও যথাসময়ে গ্রহণ  করবেন।  যেকোন দুর্ঘটনা এড়িয়ে চলার সুবধার্থে পরীক্ষাকালিন সময়ে সিঁড়ি দিয়ে উঠা নামা,গাড়িতে উঠা-নামা, বাথরুমে যাওয়া, সাইকেল চালানো এবং খেলাধুলা অত্যন্ত সতর্কতার সহিত করবেন। যেকোন Accident এড়িয়ে চলার সুবিধার্থে পরীক্ষা শুরুর অন্তত এক সপ্তাহ আগ থেকে খেলাধুলা কমিয়ে দিবেন। কারণ খেলাধুলার সময় যেকোন দুর্ঘটনা দেখা দিতে পারে। পরীক্ষার আগের রাতে দীর্ঘ সময় জেগে থাকার অভ্যাস পরিত্যগ করবেন, এত পরীক্ষার হলে অশ্বস্তি,অশান্তি এবং মাথা ব্যথাসহ যে কোন  অসুস্থতা দেখা দিতে পারে। প্রতি পরিক্ষার  আগের রাতে পড়া শুরু করার আগে অব্যশই পরবর্তী বিষয় রুটিন দেখে নিশ্চিত হবেন। পরীক্ষাকালে পড়ার সময় হাতে একটি কলম এবং রাফ কাগজ সমনে রেখে গুরুত্বপূর্ণ তথ্যগুলো মুখস্থ লিখবেন। পরীক্ষার  হলে অবশ্যই শতভাগগ কালো কালির কলম ব্যবহার করবেন, লাল কালির  কলম ব্যবহ...

কলমের জোরই বেশি



বাদশাহ শাহজাহান ছিলেন দিল্লীর সম্রাট। সম্রাটের  একটি দপ্তর ছিল, সেখানে সৈনিকদের মাসিক ভাতা দেওয়া হতো। যিনি ভাতা দিতেন, তাকে বলা হতো মুন্সীজী একদিন দপ্তেরের কাজে ব্যস্ত ছিলেন। এমন সময় ঝাড়ের বেগে হাজির হলো একজন সৈনিক। যে কোনো কারণে ভাতা নিতে দেরি হয়ে গিয়েছিল। সৈনিকটি ভেতরে ঢুকেই বজ্রকন্ঠে বললো- আমার মাইনেটা দিয়ে দাওতো।  

মুন্সীজী শান্ত গলায় বললেন -আমার হাতের কাজটা সেরেই তোমার মাইনেটা দিচ্ছি। সৈনিক রেগে গিয়ে বলল জলদি কারো। আমার আবার তাড়া আছে, বসার একদম সময় নেই। মুন্সীজী তখন হিসাব মেলাচ্ছিলেন, অন্য কাজে মন দেবার একদম সুযোগ নেই। তাই বললেন, বাপু! তোমাকে বসতেই হবে। হাতের কাজ শেষ না করে তোমাকে ভাতা দিতে পারাছি না। সৈনিক এবার কড়া মেজাজে বললো-কি আমার মাইনে দিয়ে দাও ,তা না হলে তোমার সামনের দাঁত দুটি তুলে ফেলবো। 

মুন্সীজী কলম উঠিয়ে বললেন-আমার দাঁত তুলে ফেলবে আমার হাতে ও কলম আছে ভেবো না আমি দুর্বল । আমিও কলম ‍দিয়ে কিছু করতে পারি। মুন্সীজীর কথায় কান না দিয়ে সে বললো-কলম দিয়ে করবে কচু। এখন ‍দিয়ে দাও আমার মাইনেটা। মুন্সীজী আর কথা না বাড়িয়ে সৈনিকের ভাতা দিয়ে দিলেন। সৈনিক চলে যেতে যেতে বললো-আমাকে ভয় দেখিও না বাপু ্ তোমার কলমের চেয়ে আমার তলোয়ার অনেক বড়।  সৈনিকের কথায় মুন্সীজী মনে ভারি ব্যথা ফেলেন। মনে মনে বুদ্ধি আটঁলেন, কেমন করে সৈনিককে জব্দ করা যায়। সহসা একটা বিষয় তার মাথায় এলো। তখনকার দিনে সৈনিকদের বেতন নিতে হলে শরীরের একটি টিহ্ন দেখাতে হতো। আগেই চিহ্নটির কথা বেতনের খাতায় লেখা থাকতো। মুন্সীজী বুদ্ধি করে বেতনের খাতায় শরীরের চিহ্নের ঘরে  লিখলেন- সৈনিকটির সামনের  দাঁত  দুটো নেই।

মাসখানেক পরের কথা। মুন্সীজী বেতনের টেবিল থেকে সরে গিয়ে অন্য জায়গায় বসলেন। আর বেতনের টেবিলে অন্য একজন লোক বসলো। সে সৈনিকটি আসলো মাইনে নিতে। নতুন লোকটি খাতা খুলে সৈনিককে জিজ্ঞাসা করলো-আপনার পিতার নাম কি? সৈনিক তার পিতার নাম বলল।কর্মচারী বলল দেখি, আপনার দাঁত দেখান তো। 

সৈনিক -কেন?

কর্মচারী-খাতায় লেখা  আছে আপনার সামানে দাঁত দুটি নেই।সৈনিক -নাতো!আমার চিহ্নতো কাটা আঙ্গুটা। 

কর্মচারী -না ,খাতায় যা লেখা আছে,তা-ই মানতে হবে। তা না হলে বেতন পাবেন না। 

সৈনিকটি আর রাগও  করতে পারল না, বেতন না নিলে ও চলে না। তাই বাধ্য হয়ে হেকিমের  কাছে গিয়ে তার সামনের দাঁত দুটো তুলে ফেললো। সৈনিকটি রক্তমাখা মুখে হাজির হলো দপ্তরে। বেতন নিয়ে যাওয়ার পথে দেখতে পেল আগের মুন্সীজীকে,যে তারই দিকে তাকিয়ে মুচকি হাসছে। সৈনিক মুন্সীজীকে বললো-সত্যিই কলমের জোরই বেশি। আমার উচিত শিক্ষা হয়েছে। আমি আর কোনোদিন তলোয়ারের বাহাদুরী দেখাবো না। 

                শিক্ষা: অসি কি আর মসির সাথে পারে?

আরো পড়ূন....

Comments

Popular Posts