Search This Blog
ফাহিম ইসলামিক ব্লগ: এখানে ইসলামিক জ্ঞান, ওয়াজ, গজল, কোরআন হাদীস ভিত্তিক আলোচনার মাধ্যমে দ্বীনি জ্ঞান শেয়ার করা হয়।
Featured
- Get link
- X
- Other Apps
কলমের জোরই বেশি
বাদশাহ শাহজাহান ছিলেন দিল্লীর সম্রাট। সম্রাটের একটি দপ্তর ছিল, সেখানে সৈনিকদের মাসিক ভাতা দেওয়া হতো। যিনি ভাতা দিতেন, তাকে বলা হতো মুন্সীজী একদিন দপ্তেরের কাজে ব্যস্ত ছিলেন। এমন সময় ঝাড়ের বেগে হাজির হলো একজন সৈনিক। যে কোনো কারণে ভাতা নিতে দেরি হয়ে গিয়েছিল। সৈনিকটি ভেতরে ঢুকেই বজ্রকন্ঠে বললো- আমার মাইনেটা দিয়ে দাওতো।
মুন্সীজী শান্ত গলায় বললেন -আমার হাতের কাজটা সেরেই তোমার মাইনেটা দিচ্ছি। সৈনিক রেগে গিয়ে বলল জলদি কারো। আমার আবার তাড়া আছে, বসার একদম সময় নেই। মুন্সীজী তখন হিসাব মেলাচ্ছিলেন, অন্য কাজে মন দেবার একদম সুযোগ নেই। তাই বললেন, বাপু! তোমাকে বসতেই হবে। হাতের কাজ শেষ না করে তোমাকে ভাতা দিতে পারাছি না। সৈনিক এবার কড়া মেজাজে বললো-কি আমার মাইনে দিয়ে দাও ,তা না হলে তোমার সামনের দাঁত দুটি তুলে ফেলবো।
মুন্সীজী কলম উঠিয়ে বললেন-আমার দাঁত তুলে ফেলবে আমার হাতে ও কলম আছে ভেবো না আমি দুর্বল । আমিও কলম দিয়ে কিছু করতে পারি। মুন্সীজীর কথায় কান না দিয়ে সে বললো-কলম দিয়ে করবে কচু। এখন দিয়ে দাও আমার মাইনেটা। মুন্সীজী আর কথা না বাড়িয়ে সৈনিকের ভাতা দিয়ে দিলেন। সৈনিক চলে যেতে যেতে বললো-আমাকে ভয় দেখিও না বাপু ্ তোমার কলমের চেয়ে আমার তলোয়ার অনেক বড়। সৈনিকের কথায় মুন্সীজী মনে ভারি ব্যথা ফেলেন। মনে মনে বুদ্ধি আটঁলেন, কেমন করে সৈনিককে জব্দ করা যায়। সহসা একটা বিষয় তার মাথায় এলো। তখনকার দিনে সৈনিকদের বেতন নিতে হলে শরীরের একটি টিহ্ন দেখাতে হতো। আগেই চিহ্নটির কথা বেতনের খাতায় লেখা থাকতো। মুন্সীজী বুদ্ধি করে বেতনের খাতায় শরীরের চিহ্নের ঘরে লিখলেন- সৈনিকটির সামনের দাঁত দুটো নেই।
মাসখানেক পরের কথা। মুন্সীজী বেতনের টেবিল থেকে সরে গিয়ে অন্য জায়গায় বসলেন। আর বেতনের টেবিলে অন্য একজন লোক বসলো। সে সৈনিকটি আসলো মাইনে নিতে। নতুন লোকটি খাতা খুলে সৈনিককে জিজ্ঞাসা করলো-আপনার পিতার নাম কি? সৈনিক তার পিতার নাম বলল।কর্মচারী বলল দেখি, আপনার দাঁত দেখান তো।
সৈনিক -কেন?
কর্মচারী-খাতায় লেখা আছে আপনার সামানে দাঁত দুটি নেই।সৈনিক -নাতো!আমার চিহ্নতো কাটা আঙ্গুটা।
কর্মচারী -না ,খাতায় যা লেখা আছে,তা-ই মানতে হবে। তা না হলে বেতন পাবেন না।
সৈনিকটি আর রাগও করতে পারল না, বেতন না নিলে ও চলে না। তাই বাধ্য হয়ে হেকিমের কাছে গিয়ে তার সামনের দাঁত দুটো তুলে ফেললো। সৈনিকটি রক্তমাখা মুখে হাজির হলো দপ্তরে। বেতন নিয়ে যাওয়ার পথে দেখতে পেল আগের মুন্সীজীকে,যে তারই দিকে তাকিয়ে মুচকি হাসছে। সৈনিক মুন্সীজীকে বললো-সত্যিই কলমের জোরই বেশি। আমার উচিত শিক্ষা হয়েছে। আমি আর কোনোদিন তলোয়ারের বাহাদুরী দেখাবো না।
শিক্ষা: অসি কি আর মসির সাথে পারে?
.jpeg)
Comments
Post a Comment